দুনিয়া কাঁপানো কুখ্যাত ভয়ংকর ৫ হ্যাকার।যারা পারমানবিক বোমার থেকেও ভয়ংকর।

একদিন আপনি ঘুম থেকে ওঠার পর কম্পিউটারটা অন করলেন। প্রতিদিনের মত কম্পিউটার আপনার কাছে পাসওয়ার্ড চাইল। কিন্তু তারপর যা হল তা আপনার মাথা নষ্ট হওয়ার উপক্রম। আপনি অনেকবার অনেক প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার আনলক করার চেষ্টা করলেন কিন্তু আনলক হচ্ছে না। এবার অন্যভাবে চেষ্টা করলেন সেটাও ব্যর্থ হলো। আপনি পাগলের মতো হয়ে গেলেন। আপনি বুঝলেন আপনার কম্পিউটারটি অন্য কেউ হ্যাক করে নিয়েছে। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সেই হ্যাকার চুরি করে নিচ্ছে। আপনি ভয়ে মেশিনটি তুলে আছাড় মারলেন ভেঙে চুরমার করে দিলেন। হ্যালো” প্রিয়” রিডার! আপনাদের সবাইকে TechZoa.com এ স্বাগতম। কম্পিউটার আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে পৃথিবীতে কাজের ধরনের অনেক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে এমন কোনো কাজ নেই যেখানে কম্পিউটার ব্যবহার হয় না। এখন যুদ্ধ হাতিয়ারের শক্তিতে লড়াই হয় না লড়াই হয় টেকনোলজির দ্বারা হয়। সিকিউরিটি জন্য আমরা কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোনে ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকি। তার সাথে একদল মানুষ টেকনোলজির ফাঁকফোকর খুঁজে কোন সাধারন মানুষের বা কোন দেশের গোয়েন্দা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে নেয়। এসমস্ত মানুষগুলোকে বলা হয় হ্যাকার।

হ্যাকার প্রধানত দুই ধরনের।
১.white hat hacker
২.black hat hacker

white hat hacker তাদেরকে বলা হয় যারা আইনের মধ্যে থেকে হ্যাক করে।

black hat hacker হচ্ছে আধুনিক যুগের ক্রিমিনাল। তারা মাঝে মাঝে এমন কাণ্ডকারখানা করেছে যা পুরো পৃথিবী স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

আজ আপনার সাথে এমনই 5 জন ভয়ংকর হ্যাকার এর পরিচয় দিব। যারা পুরো পৃথিবীকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল এবং তাদের ক্রিয়া-কলাপ শুনে নিশ্চিত ভাবে আপনিও অবাক হবেন। তো চলুন শুরু করা যাক আজকের এপিসোড :-

দুনিয়া কাঁপানো কুখ্যাত ভয়ংকর ৫ হ্যাকার।

হ্যাকার

১. জনাথন জেমস

ইন্টারনেট দুনিয়ায় জনাথন জেমস “কমরেড” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 15 বছর বয়সেই জেমস এমন এমন কাজ করেছিল যেটা সারা পৃথিবীতে সেরা হ্যাকার এর তৎপরতা এনে দিয়েছিল। এত কম বয়সে সে এমন হ্যাকিং করেছিল। যেটা আমেরিকা সরকারকেও ওলট-পালট করে দিতে পারত! আমেরিকা সরকারের প্রায় সমস্ত ডেটাবেস প্রশাসনিক বিভাগের তথ্য তার হাতে চলে এসেছিল কিন্তু মেইন সমস্যা তখন হয়েছিল। যখন জেমস নাসার পুরো নেটওয়ার্কে হ্যাক করে নিয়েছিল এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ কোড ডাউনলোড করে নিয়েছিল। এই সমস্যা রিকভার করতে এবং ইনভেস্টিগেট করতে নাসার প্রায় ৪১ হাজার ডলার খরচ হয়। নাসার নেটওয়ার্কের সুরক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ তা বন্ধ করে রেখেছিল। 2007 সালে আমেরিকান পুলিশ জেমস কে গ্রেফতার করে। 2008 সালে জেমস জেল থেকে মুক্তি পায় এবং তারপরই তার রহস্যময় ভাবে মৃত্যু ঘটে।

২. কেভিন পৌলসেন

অনেক সময় টিভি রেডিওতে বিভিন্ন কম্পিটিশন হয় যেখানে দর্শক বা শ্রোতারা ফোন করে সঠিক উত্তর দেয় এবং তাদের মধ্য থেকে একজনকে বিজয়ী হিসেবে গণ্য করা হয়। এরকম কোন কম্পিটিশনের যদি একটি ফোর হুইলার প্রাইস হিসেবে থাকে। তাহলে আমাদের প্রত্যেকের মন চাইবে বিজয়ী হতে। সেরকম হতে চেয়েছিলেন আমেরিকার বাসিন্দা কেভিন পৌলসেন। কিন্তু তিনি সোজা পথে সেটা না করে পুরো রেডিও স্টেশনের টেলিফোন সিস্টেমকে ১৫ মিনিটের জন্য হ্যাক করে নিয়েছিলেন। finally অন্যান্য সমস্ত শ্রোতাদের ফোন কল ডাইভার্ট করে দিয়ে। ওই রেডিও কম্পিটিশনের বিজয়ী হয়ে ফোর হুইলার এর মালিক হয়েছিলেন। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হল পৌলসেন এফবিআইয়ের সার্ভার কেউ হ্যাক করে নেন। এরপর পৌলসেন একটি সুপার মার্কেটের সিস্টেমকে হ্যাক করে অনেক ক্ষতি করেছিলেন। কিছুদিন পর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এবং ৫১ মাস জেল হয় জেল থেকে মুক্তির পর পৌলসেন পুলিশের হয়ে কাজ করে।

৩. গ্যারি ম্যাককিননোন

জেনি সোলো নামেও পরিচিত। গ্যারি সবচেয়ে বড় মিলিটারি কম্পিউটার হ্যাক করেছিল ২০০১ সালে গ্যারি ইউএস মিলিটারি এবং নাসার সার্ভারে ঢুকতে সফল হয়েছিল। এটা মনে করা হয় এই হ্যাকিং ছিল সবচেয়ে বড় মিলিটারি কম্পিউটার হ্যাকিং। এই সার্ভার ঢোকার পর তিনি কিছু ডাটা, সফটওয়্যার, ফাইল ডিলিট করে দিয়েছিল। যেগুলো রিকভার করতে গিয়ে আমেরিকা সরকার ৭ লক্ষ ডলার খরচ হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন এসব তিনি পয়সার জন্য করেনি বরং তিনি বহির্বিশ্বের পানি অর্থাৎ এলিয়েন, স্পেসশিপ এবং ufo সম্পর্কে জানার জন্য করেছিলেন এবং তিনি জানতে পেরেছিলেন। গ্যারি এক বয়ানে বলে তিনি নাসার সিস্টেমে এমন কিছু ভিডিও এবং ফটো পাওয়া গেছে। যেখানে পরিষ্কার স্পেশশিপ এবং ufo দেখা গেছে।

৪. আদ্রিয়ান লামো

তাকে হোমলেস হ্যাকার ও বলা হয়ে থাকে। ছোট বেলা থেকে প্রচন্ড দারিদ্রতার মধ্যে দিয়ে তার বেড়ে ওঠা। আদ্রিয়ান লামো নিউইয়র্ক টাইমস এবং মাইক্রোসফটের মতো বিশাল কোম্পানির সিকিউরিটি সিস্টেম হ্যাক করেছিল। দারিদ্র্য হবার কারণে নিজের কম্পিউটার না থাকায় সাইবার ক্যাফেতে কাজ চালিয়ে নিতেন। কোন কফি শপে বসে বড় বড় কোম্পানির সিইও দের ঘুম উড়িয়ে দিতেন। পরবর্তীতে লামো পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এবং আমেরিকা কোড তাকে ৬ মাসের জেল এবং ৬৫০০০ ডলার জরিমানা করে। মুক্তি পাওয়ার পর সে সাংবাদিকতার কাজ শুরু করে এবং হ্যাকিং নিয়ে মানুষকে জরিমানা টিপস দিতে থাকে।

৫. কেভিন মিটনিক

তিনি এমন ভয়ংকর হ্যাকার ছিলেন যে U.S.A ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস তাকে থা মোস্ট ওয়ান্টেড কম্পিউটার ক্রিমিনাল ইন U.S.A হিস্টরি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ছোটবেলায় কেভিন এর হ্যাকিং হাতেখড়ি হয় ফ্রি বাসের টিকিট কাটার মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে তিনি বড় বড় কোম্পানির সিকিউরিটি হ্যাক করে। বড় বড় কোম্পানি বলতে নোকিয়া, ibm এর মত বিশাল কোম্পানি। এসমস্ত কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লীগ করাতে কেভিনের হাত ছিল। ১৯৯৩ সালে এফবিআই কেবিনের টেলিফোন হ্যাক করার পর অনুসন্ধানে নেমে পড়ে। তারপর আড়াই বছর কেবিন পালিয়ে বেড়ায় এফবিআই তাকে ধরতে ব্যর্থ হয়।শেষ পর্যন্ত 1995 সালের শেষ দিকে পুলিশ তাকে ধরে ফেলে এবং তার 5 বছরের জেল হয়। কেবিন জেল খাটার পর এই কাজ ছেড়ে দেন।কাবিন এরপর সিকিউরিটি কন্ট্রোল কনসালটেন্সি নামক কোম্পানি ওপেন করে। তিনি সাইবার সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং এফবিআই, আইবিএম এর মত সংস্থার অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করে।

এই ছিল দুনিয়া কাঁপানো কুখ্যাত ভয়ংকর ৫ হ্যাকার। আবার আসব কোন নতুন টপিক নিয়ে। সেই পর্যন্ত আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন এবং আমাদের পোস্টগুলো শেয়ার করতে ভুলবেন না। কোন কিছু জানার থাকলে কমেন্টে প্রশ্ন করবেন। সেই পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ!

About the author

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *