মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের ৬টি কারন।

হ্যালো” প্রিয়” রিডার! আপনাদের সবাইকে TechZoa.com এ স্বাগতম।আপনারা জানলে অবাক হবেন, আমরা এমন একটি যুগে বসবাস করছি যে যেখানে প্রতিদিনই নতুন ইতিহাসের সৃষ্টি হচ্ছে।অদূর ভবিষ্যতে আমরা আরো একটি ইতিহাস গড়তে যাচ্ছি। যা হচ্ছে মঙ্গলে মানব বসতি স্থাপন করা। আমাদের পৃথিবীর থেকে ৫৪ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে গ্রহ মঙ্গলে  আমরা  শুধু ল্যান্ড করব। সেই সাথে সেখানে রিসার্চ ল্যাব আরেকটি সম্পূর্ণ  শহর তৈরি করব।বন্ধুরা আজকের এই ব্লগ পোস্টে আমরা বেশ কিছু কারণ আলোচনা করব যার জন্য আমরা নিকট ভবিষ্যতে যার জন্য আমরা মঙ্গলকে আমাদের দ্বিতীয় ঘর হিসেবে তৈরি করতে পারব।

মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের ৬টি কারন।

মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের ৬টি কারন।

১.পৃথিবীর বিকল্প।

বন্ধুরা আমরা মানুষ বর্তমান একটি ইতিহাসের বড় যুদ্ধে একে অপরের সাথে নয় এই গ্রহের আবহাওয়ার সাথে লড়ছি। এর জন্য বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বিকল্প হিসেবে কোন এমন একটি গ্রহ খুঁজছেন। যেখানে মানব বসতি স্থাপন করা যেতে পারে। এর জন্য মঙ্গল গ্রহ থেকে ভালো বিকল্প আমাদের কাছে নেই। কারণ এখন পর্যন্ত অধ্যায়ন করে মানুষদের জন্য সব থেকে উত্তম গ্রহ হিসেবে মঙ্গলকে মনে করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানে  যে আমাদের পৃথিবী কোন না কোন সময় ধ্বংস হবেই। এর জন্য বিজ্ঞানীদের মনে নানান রকম আশঙ্কা জন্ম দিয়েছে যদি কোনো উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে এসে আঘাত করে। তাহলে সম্পূর্ণ মানব সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও আমাদের পৃথিবীর পারমাণবিক বোম এতটাই ধ্বংসাত্মক হয়ে গেছে যে যেকোনো মুহূর্তে সম্পূর্ণ মানব জাতিকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।এর থেকে মানবসভ্যতাকে বাঁচানোর জন্য মঙ্গল গ্রহে মানুষের দ্বিতীয় বসতি স্থাপন করতে হবে।এলন মাস্ক স্প্যাসেক্স কোম্পানি ফাউন্ডার এবং তার কোম্পানি এ বিষয়ে নিরন্তন কাজ করে যাচ্ছে। ইলন মাস্কের অনুযায়ী স্প্যাসেক্স কোম্পানির মাধ্যমে ২০২২ সালের মধ্যে একটি মানব মিশন মঙ্গলে পাঠাতে চান।মঙ্গল গ্রহে যাওয়া আমাদের মানব ইতিহাসের এখনো পর্যন্ত সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি। আপনি জেনে অবাক হবেন এখনো পর্যন্ত মঙ্গল গ্রহে যাকে অসম্ভব মনে করা হয়।কিন্তু এটা জানা দরকার চাঁদে যাওয়া এক সময় অসম্ভব মনে করা হত। কিন্তু মানুষ তার বুদ্ধি এবং প্রযুক্তি দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে।

২.আমাদের কাছে মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার টেকনিক বা টেকনোলজি আছে ।

মঙ্গল চাঁদের তুলনায় আমাদের পৃথিবী থেকে ১৮২ গুণ অধিক দূরে আছে আর এতটা দূরত্ব পাড়ি দিতে আমাদের নানান রকম বাধার সম্মুখীন হতে হবে।যেমন কসমিক রাইস।সবচেয়ে বড় বাধা আমরা মঙ্গল গ্রহে আবহাওয়ার সাথে পরিচিত নই।কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন আমাদের কাছে এই ধরনের টেকনিক প্রথম থেকেই আছে বেশ কয়েক বছর ধরে স্প্যাসেক্স এবং নাসা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন  প্রয়োজনীয় উপকরণ পাঠিয়ে আসছে। এর মধ্যে তারা খোলা মহাশূন্যে এমন কিছু আবিষ্কার করেছে যেগুলো তাদের মঙ্গল গ্রহে ল্যান্ড করতে সাহায্য করবে। নাসাও এরকম অনেক বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার টেকনিক বিকশিত করে নিয়েছে। এখন ঐদিন আর বেশি দূরে নেই যখন আপনি মঙ্গল গ্রহকে অনেক কাছ থেকে দেখতে পারবেন।

৩.মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের সঠিক টেকনিক থাকা।

বন্ধুরা বিজ্ঞানীদের কথা অনুযায়ী, বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহের কন্ডিশন কে  পুরো পৃথিবীর মত করে দিতে পারবে। এর মানে বিজ্ঞানীদের কাছে এমন টেকনিক আছে। যার সাহায্যে মঙ্গল গ্রহের সম্পূর্ণ চেহারাই পরিবর্তন করে দেয়া যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা ওখানে গিয়ে মেরু সব বরফকে গলিয়ে দিতে পারবে এবং মঙ্গলের আবহাওয়া পরিবর্তন করে দিতে পারবে।বন্ধুরা বিজ্ঞানীরা মঙ্গলে টের্রফরমিং করে বসবাসের চিন্তাভাবনা করছে। যেটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।হয়তো তারা বেশ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে একটি বড় গম্বুজের ভিতরে টের্রফরমিং করে বসবাসের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করবে আর তা না হলে আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকার জন্য বিশাল শহর তৈরি করবে।কারণ সম্পূর্ণ মঙ্গল গ্রহকে
টের্রফরমিং করা ভীষণ কঠিন কাজ।

৪.মঙ্গল হতে প্রচুর পরিমাণ জল হওয়া

জল এমন একটি জিনিস যেটা ছাড়া মানব জীবন অসম্ভব আর ভাগ্যক্রমে মঙ্গলে প্রচুর পরিমাণে জলের মজুত আছে বরফ রূপে। যেটাকে গলিয়ে পান করার উপযুক্ত করা যাবে।বন্ধুরা নাসা মঙ্গলে প্রচুর পরিমাণ বরফের খোঁজ পেয়েছে। এরমানে আমাদের মঙ্গল গ্রহের জল নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

৫.মঙ্গল গ্রহের ভূমি এবং তাতে বিভিন্ন ধরনের উপাদান হওয়া।

জল ছাড়াও এমন অনেক জিনিস আছে। যেগুলো মানুষের থাকার জন্য দরকার হয়ে থাকে। যেমন এমন একটি জিনিস যার দ্বারা আপনি মঙ্গল গ্রহে কিছু তৈরি করতে পারেন। কারণ আপনি যদি পৃথিবী থেকে ঘর তৈরি জিনিস নিয়ে যান। তাহলে সেটা ভিশন কষ্টদায়ক এবং সময় সাপেক্ষ একটি ব্যাপার হয়ে যাবে। কিন্তু মঙ্গলের প্রয়োজনীয় উপাদান থাকার কারণে । আমাদের মঙ্গল গ্রহে ঘর তৈরি বা অন্য কোন জিনিস তৈরি করতে তেমন কোন অসুবিধা হবেনা।

৬.প্রতিযোগিতা।

বন্ধুরা মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার বেশ কিছু কারণের মধ্যে এই প্রতিযোগিতায় একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।চাঁদে প্রথম পা রাখা ব্যক্তির নাম নেইল আর্মস্ট্রং। তিনি আমেরিকান ছিলেন আর হয়তো এটাই কারণ ছিল আমেরিকা তখন থেকেই সব থেকে আগে আছে।রাশিয়ার সাথে হওয়া প্রতিযোগিতায় আমেরিকা বাধ্য করেছিল। যেন তারা কোটি কোটি ডলার খরচ করে হলেও রাশিয়ার পূর্বে চাঁদে মানব মিশন পাঠাতে পারে।আর আমেরিকা সেটি করে দেখেছে।বন্ধুরা এটাও একটি যুদ্ধ ছিল। এইখানে আমেরিকা রাশিয়াকে হারিয়ে দিয়েছিল।বর্তমানে মহাশূন্যে অধিবিদ্যার বিস্তারের জন্য শুধু এই দুটো দেশী নয়  চীন ও আছে। চীন মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার জন্য তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।নাসা ২০৩০ এর মধ্যে একটি মানব মিশনকে মঙ্গলে পাঠাবে। এদিকে ভারতও প্রথম চেষ্টাতেই মঙ্গল যান পাঠিয়ে তাদের ইচ্ছা এবং দক্ষতাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে।বন্ধুরা এছাড়াও প্রাইভেট অনেক কোম্পানি আছে। এদের ভূমিকা এইদিক থেকে কম নয় স্প্যাসেক্স এবং ব্লু অরিজিন একে অপরের থেকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি প্রতিযোগিতা সবসময় করে যাচ্ছে। এখন বিভিন্ন দেশ এবং প্রাইভেট কোম্পানির প্রতিযোগিতা প্রতিযোগীদের মূল লক্ষ্য এখন মঙ্গল। এর পূর্বে আমরা মানুষ পৃথিবীর বাইরে মানব মিশন পাঠানোর জন্য এতোটা সিরিয়াস চাঁদে যাওয়ার জন্য হয়েছিলাম। বর্তমানে আমরা মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার জন্য হয়েছিলাম। তাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস ওইখানে মানববসতি স্থাপন করতে পারব।


তখন মঙ্গল গ্রহে যেসব মানুষ বসতি স্থাপন করে বসবাস করবে তাদের হয়তো আমরা মঙ্গল বাঁশি আর না হলে মার্চ নামের অনুসারে হয়তো তাদের মার্সিয়ান বলে ডাকব। এটাই ছিল বেশ কিছু কারণ যার জন্য আমরা মঙ্গলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি।বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্তই।মানুষ কি পারবে মঙ্গলে যেতে? আপনার কি অভিব্যক্তি আছে এটা সম্পর্কে সেইটা আমাকে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। আর বন্ধুরা আজকের পোস্টটি যদি আপনার ভাল লাগে তাহলে প্লিজ কমেন্ট করে জানাবেন এবং শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে।

About the author

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *